
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহতের ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে বাস দুটির মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই বাসের চালক ও মালিকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ধানখেতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই বাসের সাত যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। নিহতদের একজন ছিলেন ১৭ বছর বয়সী উদীয়মান বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। এ দুর্ঘটনায় বিভিন্ন পরিবারের নয়জন মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এ দিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের সময় মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, বাস দুটির চলাচল, চালকদের ভূমিকা এবং সড়কের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। এরপর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও দায় থাকলে তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
বিআরটিএর পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের তিন লাখ টাকা এবং আহতদের এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত তাঁদের অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। পঙ্গুত্ব বরণকারী ও আহত ব্যক্তিদের আবেদন ফরম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের আবেদনও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সহায়তা দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩ এবং সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭। সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার পর বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য সিলেট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল ও মালিক-চালকদের তলবের মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হলেও এখন মূল প্রশ্ন-মহাসড়কে নয়টি প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী এবং এর জন্য দায়ী কে? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই এখন সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটা নির্ভর করছে।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com