ডেস্ক রিপোর্ট:
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে অন্তত ২২টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত রয়েছে। এতে ১১ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়সংকট। এদিকে মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। শুধু হবিগঞ্জ সদর উপজেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারলেস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে চার হাজার ১৭৫টির বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজও চলছে।
এদিকে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে গিয়েছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাবে।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com