নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার হাজতে থাকা এক ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে থানার হাজতের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকে ভিডিও ধারণের সুযোগ কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- নবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমি। শনিবার দুপুরে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় শাহ তপুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে নবীগঞ্জ থানার হাজতে রাখা হয়। শাহ তপু ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত।
হাজতে থাকা অবস্থায় শাহ তপু ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি থানার হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য, শাহ তপুকে পানি দেওয়ার কথা বলে একই গ্রামের শাহ জুয়েল নামে এক যুবক হাজতের কাছে যান। এ সময় কৌশলে মুঠোফোনে শাহ তপুর বক্তব্য ও স্লোগানের ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে একই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে, হাজতের কাছে যাওয়ার সময় জুয়েলের কাছে মুঠোফোন ছিল কি না এবং থাকলে সেটি কীভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নজর এড়িয়ে গেল- এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাজতের ভেতর থেকে ভিডিও ধারণের ঘটনা পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা দুজন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য বিষয়েও তদন্ত চলছে।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com