মোঃ ফাহাদ আহমদ:
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিলেটের বৈরাগীবাজারের একটি মাজারে বাউল গানের আসর শেষ করেছিলেন। দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়েছিল মঞ্চ। রাত পেরিয়ে ভোরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ১৭ বছরের উদীয়মান লোকসংগীতশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। কিন্তু সেই ফেরাই আর শেষ পর্যন্ত বাড়ি পৌঁছায়নি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তাঁর জীবনের সুর।
শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন পেহেলী ভৈরবী। ওই দুর্ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেহেলী ভৈরবীর প্রকৃত নাম ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের উত্তরা পাড়ার বাসিন্দা। বাবা বাবুল মিয়া, মা রোজিনা বেগম। অল্প বয়স থেকেই লোকসংগীতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। বিভিন্ন মাজার, উরস ও লোকসংগীতের অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁকে সম্ভাবনাময় শিল্পী হিসেবে দেখা হতো।
জানা গেছে, ৬ আগস্ট রাতে তিনি সিলেটের নদার রামপাশা বৈরাগীবাজার এলাকায় হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) এর মাজারের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার ভোরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর পেহেলী ভৈরবীর মা রোজিনা বেগম পুলিশের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় পরিবারের কারও কোনো সন্দেহ না থাকায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চান তিনি।
পেহেলী ভৈরবীর অকাল মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে লোকসংগীত অঙ্গনে। যে কণ্ঠ মাজারের আঙিনা, উরসের মঞ্চ আর গ্রামবাংলার লোকগানের আসরে মানুষকে মুগ্ধ করত, সেই কণ্ঠ আজ চিরতরে স্তব্ধ। শেষ রাতের সেই গানের আসরই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ পরিবেশনা।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com