কমলগঞ্জে সবুজ শ্যামল টিলাভূমি কেটে কমলগঞ্জের আলীনগর ইউপির রাজকান্দি মৌজায় নির্মাণ করা হয় দু’শ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এখানকার কিছু সংখ্যক ঘরে কয়েকটি পরিবার বসবাস করলেও বেশীর ভাগ ঘর জনমানব শূণ্য অবস্থায় পড়ে আছে। কিছু ঘরে থাকছে গরু-ছাগল, নতুবা দখলদাররা রাখছে খড় কিংবা অন্যান্য জিনিসপত্র। ফলে এ এলাকার ভূমিহীনদের আশ্রয় দানের লক্ষ্যে নির্মিত আশ্রায়ণ প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা খরচেও গরীব অসহায় মানুষের উপকারে আসছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তিন দিকে কামাইছড়া ফাঁড়ি চা বাগান, একদিকে সবুজে ঘেরা লোকালয়। তার মধ্যখানে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি মৌজার টিলা ভূমি। পরিবেশের ক্ষতি করে টিলা ও ফলজ-বনজ বৃক্ষাদি কেটে ওই স্থানে নির্মাণ করা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১টি ঘর। বছর দুয়েক আগে নির্মিত এ ঘরগুলোর মধ্যে একটি পরিবারের মানুষ মাত্র বসবাস করছেন।
বসবাসকারী কলিম মিয়া (৫৩) জানান তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার অধিবাসী হলেও বরাদ্দবিহীন ভাবে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বিদ্যুৎ কিংবা পানির ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক দুর্ভোগের মাঝে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী মমতা বেগম জানান একলা থাকতে রাতের বেলা খুব ডর লাগে। আর কোন উপায় না থাকায় এখানে থাকতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান টিএনও সাবের লগে কথা হইছে তিনি বলছেন ভোটের কার্ড, নাগরিক সনদপত্র নিয়া গেলে দলিল করে দিবা। স্থানীয় ওয়াহিদ খান (৭০) জানান বাপ-দাদার আমল থাকি এই জায়গা ভোগ দখল করে আম, কাঠাল, বাঁশ ফলাইয়া নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতাম। সরকারি লোক সব গাছ গাছালি কাইটা ঘর বানাইয়া মানুষের কোন কামে লাগছে না।
তিনি জানান কয়েকটি ঘরে গো-খাদ্য খড়, চাষের মেশিন ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখার অনুমতি তাকে দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প অফিসার। এ দিকে রাজকান্দি থেকে হাফ কিমি দূরে কালিচালি গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে আরও ১৫৯টি আশ্রয় প্রকল্পের ঘর। সেখানে বসবাস করা নাসিমা বেগম (২১), আফিয়া বেগম (২৪) জানান নিকটবর্তী চিতলী গ্রামের বাসিন্দা আমরা। সেখানে পরের বাড়িত থাকতাম তাই এখানে আশ্রয় পাইছি। তারা জানান ১৫০-২০০ ঘরের মাঝে আমরা ২০-২৫টি পরিবার থাকি।
অন্যান্যদের কেউ কেউ মাঝে মাঝে আসেন অনেকে কোন দিনই আসেননি। কালিচালি গ্রামের কৃষিজীবি আচদ্দর মিয়া (৫০) জানান যাচাই বাছাই করে স্থানীয়দের মধ্য থেকে প্রকৃত ভূমিহীনদের এ সব ঘর দেওয়া হলে একটি ঘরও খালি থাকত না। তিনি আরও জানান লাখ লাখ টাকা খরচ করে মানুষের বসবাসের ঘর বানাইলেও এখন অনেক ঘরের বারান্দা গরু-ছাগলের থাকার জায়গা হয়েছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দাউদপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘরে মানুষ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই উপজেলার খলিলপুর ইউপির ফতেপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দেওয়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া পাওয়া গেছে। এ দিকে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপাড় গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের তিনটি ঘর স্থানীয় প্রভাবশালীমহল দখল করে রেখেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মাইদুল ইসলাম জানান টিলা কিংবা পাহাড়ি ভূমি কেটে যে কোন স্থাপনা নির্মাণ বেআইনী। একই সাথে পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য হুমকী স্বরূপ। এ সব ঘর নির্মাণের বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই বলে তিনি জানান।
কমলগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডিএম সাদিক মোবাইল ফোনে বলেন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় এবং কাজের সুযোগ সুবিধা না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়েও সেখানে কেউ বসবাস করছে না।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন যে সব খালি রয়েছে সেগুলো নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ সম্পর্কের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলবো।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com