ডেস্ক রিপোর্ট :
আইন পাশের দুই যুগ পরও বিশ্ববিদ্যালয় পায়নি অবহেলিত উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়া। নানা টালবাহানায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না আইন। এবার অভিযোগের তীর শিক্ষা উপদেষ্টার সহকারীর দিকে।
জানা যায় ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের মেয়াদের শেষ মুহুর্তে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাশ হয়। বগুড়ার গাবতলীতে স্থান নির্ধারণের বিষয়ে কথা ওঠে সেই সময়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। ক্ষমতায় আসে বিএনপি জামাতের জোট সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া হওয়া সত্বেও অদৃশ্য কোন এক কারণে তৎকালীন বিএনপির শাসনের পাঁচ বছরে আলোর মুখ দেখেনি বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আবারও ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে অন্ধকারেই রয়ে যায় অবহেলিত উত্তরবঙ্গের বগুড়া বাসীর স্বপ্নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
আইন পাশের ২২ বছর পর ২০২৩ সালের ১০ই মে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের সরকারী অধ্যাদেশ জারির পর আবারও আলোচনায় এসেছে উত্তরের রাজধানী খ্যাত বগুড়ার বাস্তবায়নাধীন বিশ্ববিদ্যালয়টি। সম্প্রতি উপাচার্য নিয়োগের আদেশ হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় আসে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হাছানাত আলীকে নিয়ে রসালো আলোচনা চাউর হয়। আলোচনা ডালপালা ছড়াচ্ছে শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আমিনুল ইসলামকে ঘিরে যিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
শোনা যাচ্ছে বগুড়ার বিএনপি নেতা মীর শাহ আলমের সাথে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দহরম সম্পর্ক। সম্প্রতি অফিস চলাকালীন বিএনপি নেতা মীর শাহ আলমের সাথে প্রায়ই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসা যাওয়া করছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যা জন সাধারণের মনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়াও গত ৯ ডিসেম্বর এক রাষ্ট্রীয় সফরকালে বগুড়ার মম-ইন রিসোর্টে রাত্রি যাপন কালীন সময়েও এই দুজন ড. আমিনুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা যায় যা রাষ্ট্রীয় সফর সূচিতে ছিলো না ফলে নানান জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যে মেতেছেন উপাচার্য হাছানাত আলী, বিএনপি নেতা শেখ শাহী আলম ও শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আমিনুল ইসলাম। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। যদিও ইউজিসি'র বরাত দিয়ে নিয়োগ বন্ধের ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের এখতিয়ার শুধু মাত্র উপাচার্য মহোদয়ই নিতে পারেন। যেহেতু ববিপ্রবি'তে এখনও উপাচার্য নিয়োগ হয়নি সেহেতু প্রকাশিত সংবাদগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্ধিহান সাধারণ মানুষ। সকল প্রকার বৈষম্য ও সকল অনিয়ম দুর্নীতি দুর করতে ও ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার হাসিনা সরকারকে হটাতে হাজারো তাজা প্রাণ খসে গেল জুলাই-আগস্টে। সেই রক্ত শুকানোর আগেই এমন দুর্নীতির খবরে হতাশ হচ্ছে জনগন।
সাধারণত নতুন কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় সেই এলাকার যোগ্যতা সম্পন্ন একজনকেই উপাচার্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় যিনি স্থানীয় বাস্তবতা ভালো বুঝেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। কিন্তু বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সে নিয়মেরও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী থাকা সত্বেও অন্য জেলার এবং গ্রেড -২ এর একজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে। যেন শুরুই আগেই অনিয়মের ঝাঁপি খুলে বসেছে একটি মহল আর তাতেই বন্ধ হয়ে আসে বগুড়া বাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে।
শোনা যাচ্ছে ববিপ্রবি'র ভিসি হতে যেসব আবেদন জমা পড়েছে ও যারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এ তালিকায় সব থেকে এগিয়ে ছিলেন বগুড়ার সন্তান, বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্রেড-১ প্রফেসর, যিনি মূলত একজন কৃষিবিজ্ঞানী, যার দু'টি পিএচডি (একটি দেশ থেকে, অন্যটি জাপান থেকে) ও কমনওয়েলথ স্কলারশিপে ইংল্যান্ড থেকে পোস্ট ডক্টরেট রয়েছে। তিনি উদ্ভাবন করেছেন রাবি ধান সহ আরও ৪টি ফসলের নতুন জাত। হাছানাত আলী, মীর শাহ আলম ও আমিনুল ইসলাম চক্র এই প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বকে বাদ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরই তার থেকে অন্তত ১২ বছরের জুনিয়র, তুলনামূলকভাবে অনেক কম যোগ্যতার প্রার্থীকে নিয়োগের চেষ্টারত রয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন মহলের সাথে কথা বললে তারা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু থেকেই সুষ্ঠুভাবে চলুক, সুন্দরভাবে চলুক; বগুড়া তথা সারা দেশের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সৃজনের এক বাতিঘরে পরিণত হোক। তারা আরো বলেন প্রথমত নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে হওয়াটা জরুরি ; যাতে করে প্রকৃত দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী তথা প্রতিভাবানেরা নিয়োগ পান। দ্বিতীয়ত, ভিসি নিয়োগের জন্য বগুড়ার যোগ্য ব্যক্তি পাওয়া না গেলে দেশের যে কোন জেলা থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ করা যেতেই পারে। কিন্তু তাই বলে কেবল তদবিরের জোরে আর চক্রান্ত করে বগুড়ার সন্তানকে বাদ দিলে বগুড়াবাসীরা তা মানতে নারাজ।
সকল অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি দূর করে ন্যায় ও বিধিসম্মতভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করে দ্রুত বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হোক।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com