
ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় গত ১২ দিনে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরনও গুরুতর- ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, ঘুষ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং ইয়াবা দিয়ে একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ। এসব ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে একজন এসআই, দুজন এএসআই ও একজন কনস্টেবলকে থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে প্রত্যাহার করা হয়। এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর ঠিক এক দিন আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রত্যাহার করা হয় এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’ অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তাঁর বক্তব্য ধারণ করেন।
এরও আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কালিশিরী গ্রামের একই পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। এরপর ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনায় চুনারুঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষের অভিযোগসংক্রান্ত দুটি ভিডিও এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ- ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. রাফিউর রহমান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ওঠা এবং তদন্তের স্বার্থে সদস্যদের প্রত্যাহারের ঘটনায় চুনারুঘাট থানার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও মাঠপর্যায়ে পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা মেলে, সেটিই দেখার বিষয়।
প্রধান সম্পাদক : নূরুল ইসলাম
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :
আল-ফাহাদ কম্পিউটার ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হাউস, আফরোজগঞ্জ-৩২০৩, শেরপুর, মৌলভীবাজার।
ফোন: +৮৮ ০১৭২৮-২৪২৭৮৮, ই-মেইল: creativenewsbd2019@gmail.com