

ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক:
মৌলভীবাজারে পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চক্রটির কথিত সর্দার জুমন মিয়া (২৬)। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা শহিদ মিয়া কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি পিকআপটির গতিরোধ করেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদ মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে। পরে গত ১ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রথমে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকা থেকে মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে পরিচিত জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নজরুল, রাহেল ও সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি, গরু-মহিষসহ বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাঁরা মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেন। পরে পুলিশের পরিচয়ে গাড়িটি থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষ ও পিকআপ ছিনিয়ে নেন। মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে রেখে পরদিন সিলেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন তাঁরা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থ, আশরাফুল আলম চৌধুরী, জয়ন্ত সরকার, আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
