• ঢাকা
  •    রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ এএম


ক্ষমতায় গেলে নবীগঞ্জ-বাহুবলের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছানো হবে: মামুনুল হক

আপডেট টাইম: January 27, 2026 8:39 pm



মোঃ ফাহাদ আহমদ:

নবীগঞ্জে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসমাবেশে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এ সময় বিবিয়ানা ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস নবীগঞ্জ ও বাহুবলের প্রতিটি ঘরে ঘরে সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার জে কে হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি দেশের মানুষকে তার প্রকৃত ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।” ক্ষমতায় গেলে বিবিয়ানা ও রশিদপুরের গ্যাস আগে নবীগঞ্জ-বাহুবলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে অতিরিক্ত গ্যাস দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জুল হুসাইন মিরাজী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মশিউর রহমান এবং সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহাজাহান আলী।

এ দিকে মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শাসনের নামে শোষণের শিকার হয়েছে। মানুষের অধিকারের কথা বলে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, গরিব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৫৪ বছরের অব্যবস্থাপনা, জুলুম ও আধিপত্যবাদী শক্তির কবল থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতেই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে আবু সাঈদ জীবন দিয়েছে, হাজারো তরুণ প্রাণ দিয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এই ত্যাগকে অর্থবহ করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।” জুলাই সনদের পক্ষে গণরায়ের লক্ষ্যেই ঐতিহাসিক ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায় ছিনতাই না হলে এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল পাল্টানোর চেষ্টা না হলে ১১ দলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে- এ বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছি। আগামী দিনে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কাজী মুখলেছুর রহমান, নেজামী ইসলামী পার্টির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ খান, প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম জাকিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।