• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম


ডিসি’র নির্দেশ অমান্য করে ফের পশুরহাট

আপডেট টাইম: March 2, 2025 3:25 am




হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতি সপ্তাহেই বসছে নবীগঞ্জের অবৈধ জনতার বাজার পশুর হাট। হাট বসিয়ে পায়দা হাসিল করছে জনতার বাজার পরিচালনা কমিটি। পশু ক্রয়ের রশিদ দেয়ার নামে বাজার পরিচালনা কমিটি লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।

গতকাল শনিবার (১ মার্চ) ৫ম বারের মতো জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে জনতার বাজার পশুর হাট বসায় বাজার পরিচালনা কমিটি।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজার পশুর হাট নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাজার ইজারা দেয়া হচ্ছেনা। ফলে উপজেলা প্রশাসন প্রায় দেড় যুগ ধরে হাসিল আদায় করে আসছিল। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৫ইং তারিখে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনতার বাজার পশুরহাট অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর জনতার বাজার অপসারণে জেলা প্রশাসনের নিদের্শনার কথা উল্লেখ করে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির সাইনবোর্ড সাটানো হয়। সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- কোনো ব্যক্তি সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাট পরিচালনা করলে বা অবৈধভাবে হাট পরিচালনায় সহযোগীতা করলে অথবা মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে হাট-বাজার আইন ২০২৩ ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ হবে। আইন অমান্যকারীকে সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড প্রদান করা হবে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। জেলা প্রশাসকের এমন কড়া নির্দেশের পরেও প্রতি শনিবারে হাট বসছে, চলছে বেচা-কেনাও। এবারও ৪র্থ তম হাটে অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে রশিদ দিয়েই গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন লোকজন বলছেন- ‘এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার খেলা চলছে। হাট বসাতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছেন বাজার কমিটির লোকজন। কারণ এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। প্রতি বাজার থেকে যত লাভ হয়, তা ভাগ-ভাটোয়ারা হয়। এখানে আওয়ামীলীগ-বিএনপির লোকজন একাকার হয়ে মিলে মিশে খাচ্ছেন। তাইতো কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে হাট বসানো এবং একের পর এক হাট বসলেও নেই কোন প্রশাসনিক একশন। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে গত ১ ফেব্রুয়ারী, ৮ ফেব্রুয়ারী, ১৫ ফেব্রুয়ারী , ২২ ফেব্রুয়ারী এবং গতকাল (১ মার্চ) রোজ শনিবারেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জনতার বাজার পশুহাট বসিয়েছে বাজার পরিচালনা কমিটি। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪-৫ হাজার গরু-ছাগল নিয়ে বাজারে আসেন ক্রেতারা। দেখাযায়- রশিদের মাধ্যমে পশু বিক্রির হাসিল তোলা হচ্ছে। প্রতিটি গরু বিক্রির রশিদের বিনিময়ে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত ৫টি বাজার বসিয়ে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাজার পরিচালনা কমিটি। প্রত্যেক বাজারে ২০০ থেকে ৫০০ গরু বিক্রি হয়ে তাকে। জনতার বাজারে পশু ক্রয় করে আসা হবিগঞ্জ সদরের শায়েস্তানগর এলাকার সাকিন আহমেদ বলেন- দুটি গরু ক্রয় করতে জনতার বাজারে এসেছিলাম, ১ গরু ১লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি, গরু বিক্রির রশিদের জন্য ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

শিরপুর এলাকার হোসেন মিয়া এক ক্রেতা বলেন- জনতার বাজারে গরু কিনতে এসেছিলাম ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ডেকা গরু ক্রয় করেছি, রশিদের জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন- বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করবো, স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।