• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম


নবীগঞ্জে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার আরও এক সন্দেহভাজন

আপডেট টাইম: June 17, 2026 5:56 pm



নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দিনদুপুরে দুই নারী শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আক্তার মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে নবীগঞ্জ পৌর শহরের গন্ধ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি রামদা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আক্তার মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আক্তার মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে সকালে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর এলাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পর্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী রানী পালের পথরোধ করে মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক। অস্ত্রের মুখে তাঁরা শিক্ষিকার কানে থাকা প্রায় সাড়ে তিন আনা ওজনের স্বর্ণের দুল এবং গলায় থাকা প্রায় সাত আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।

একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লাকী রানী দাস বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় স্কুলের সামনে মোটরসাইকেলযোগে আসা তিন যুবক তাঁর পথরোধ করে। রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাঁর গলায় থাকা প্রায় ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা।

একই দিনে প্রকাশ্যে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় নবীগঞ্জজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষিকা পৃথকভাবে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীদের তথ্য ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৮ মে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে অভিযান চালিয়ে খালেদ আহমদ নামের আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ বলছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।