

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতি সপ্তাহেই বসছে নবীগঞ্জের অবৈধ জনতার বাজার পশুর হাট। গতকাল শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) ৪র্থ বারের মতো অবৈধভাবে জনতার বাজার পশুর হাট বসিয়ে রশিদ দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাজার পরিচালনা কমিটি। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। দেশে পট-পরিবর্তনের পর প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিএনপির উপর ভর করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হরিলুটের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পরও ব্যবস্থা নিচ্ছে না নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ পশুরহাট নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা হওয়ায় প্রতি শনিবার জনতার বাজার পশুরহাট বসার ফলে মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। বাজারের হাসিল আদায় নিয়ে বিতর্ক, বাজারের অব্যবস্থাপনা সবশেষ মহাসড়কের যানজটের ভোগান্তির ফলে জনতার বাজার পশুরহাট অপসারণে জেলা প্রশাসক নির্দেশনা জারি করেন। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ৪র্থ সপ্তাহ ধরে অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়েই যাচ্ছে জনতার বাজার পরিচালনা কমিটি।
অভিযোগ উঠেছে- এখানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, বিএনপি সিন্ডিকেট করে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই পশুর হাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সঙ্ঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্রটি। সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হলেও লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় বাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের কিছু কপিতয় কর্মচারী। সূত্র বলছে- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কয়েকজন সহকারি জনতার বাজার পশুর হাট থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থে কোটিপতি বনে গেছেন।
এ দিকে নবাগত ইউএনওকে ভুল তথ্য প্রদান করেছে তার অসাধু অফিস সহকারিরা, ফলে কোন এ্যাকশনে যাচ্ছেন না ইউএনও। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে বাজার পরিচালনা কমিটির এহেন কা-ে তাদের কুঁটির জোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজার পশুর হাট নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাজার ইজারা দেয়া হচ্ছেনা। ফলে উপজেলা প্রশাসন প্রায় দেড় যুগ ধরে হাসিল আদায় করে আসছিল। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৫ইং তারিখে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনতার বাজার পশুরহাট অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর জনতার বাজার অপসারণে জেলা প্রশাসনের নিদের্শনার কথা উল্লেখ করে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির সাইনবোর্ড সাটানো হয়।
সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- কোনো ব্যক্তি সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাট পরিচালনা করলে বা অবৈধভাবে হাট পরিচালনায় সহযোগীতা করলে অথবা মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে হাট-বাজার আইন ২০২৩ ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ হবে। আইন অমান্যকারীকে সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড প্রদান করা হবে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। জেলা প্রশাসকের এমন কড়া নির্দেশের পরেও প্রতি শনিবারে হাট বসছে, চলছে বেচা-কেনাও। এবারও ৪র্থ তম হাটে অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে রশিদ দিয়েই গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন লোকজন বলছেন- ‘এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার খেলা চলছে। হাট বসাতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছেন বাজার কমিটির লোকজন। কারণ এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। প্রতি বাজার থেকে যত লাভ হয়, তা ভাগ-ভাটোয়ারা হয়।
এখানে আওয়ামীলীগ-বিএনপির লোকজন একাকার হয়ে মিলে মিশে খাচ্ছেন। তাইতো কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে হাট বসানো এবং একের পর এক হাট বসলেও নেই কোন প্রশাসনিক একশন। এতে বোঝাই যাচ্ছে ডাল মে কুচ কালা হে।’ প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে গত ১ ফেব্রুয়ারী, ৮ ফেব্রুয়ারী, ১৫ ফেব্রুয়ারী এবং গতকাল ২২ ফেব্রুয়ারী রোজ শনিবারেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জনতার বাজার পশুহাট বসিয়ে রশিদের মাধ্যমে পশু বিক্রির হাসিল তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪র্থ বাজার বসিয়ে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাজার পরিচালনা কমিটি।
জনতার বাজারে পশু ক্রয় করে আসা বানিয়াচংয়ের আব্দুর রহিম বলেন- একটি গরু ক্রয় করেছি, রশিদের জন্য ১৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। লোকমান আহমদ নামে বাহুবল সদর এলাকার এক ক্রেতা বলেন- জনতার বাজারে গরু কিনতে এসেছিলাম ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেছি, রশিদের জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।
দিন দিপুরে প্রকাশ্যে চলছে এমন অনিয়ম কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন নীরব কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন- আমাদের পক্ষ থেকে খাস কালেকশন করা হচ্ছেনা, এরপরও জনতার বাজার বসিয়ে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায়ের বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি, জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
