• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম


মাইগ্রেনের ব্যথা ভেবে বড় কোনো রোগ অবহেলা করছেন না তো?

আপডেট টাইম: January 14, 2026 12:55 pm



মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত সমস্যা। অনেকেই বারবার মাথাব্যথা হলে সেটিকে ‘মাইগ্রেন’ ভেবে ব্যথানাশক খেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু সব মাথাব্যথাই কি মাইগ্রেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের মতো মনে হওয়া ব্যথার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক কোনো রোগ। তাই অবহেলা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।

মাইগ্রেন কী?

মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশ জুড়ে তীব্র ব্যথা, আলো ও শব্দে অসহ্যতা, বমি বমি ভাব বা বমির মতো উপসর্গ নিয়ে আসে। এটি দীর্ঘমেয়াদি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী নয় এবং নির্দিষ্ট ওষুধ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।


সব ব্যথাই কি মাইগ্রেন?
 
চিকিৎসকদের মতে, কিছু ভয়ংকর রোগের প্রাথমিক লক্ষণও মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথা দিয়ে শুরু হতে পারে।

১. ব্রেন টিউমার: ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালে বেশি অনুভূত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

২. স্ট্রোক বা ব্রেন হেমোরেজ: হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বিপদের সংকেত।

৩. মেনিনজাইটিস: জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া ও তীব্র মাথাব্যথা একসঙ্গে হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

৪. উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা: অনিয়ন্ত্রিত প্রেসারের কারণে মাথার পেছনে বা চারপাশে চাপধর ব্যথা হতে পারে।

৫. চোখের জটিলতা বা সাইনাস সংক্রমণ: দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার পেছনে এসব কারণও লুকিয়ে থাকতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

 

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে শুধু মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত—

 

১. হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা

২. ব্যথার ধরন বা তীব্রতা হঠাৎ বদলে যাওয়া

৩. মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়া

৪. দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া

৫. নিয়মিত ওষুধে ব্যথা না কমা
অবহেলার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে

সময়ে রোগ শনাক্ত না হলে বড় ধরনের জটিলতা বাড়তে পারে; প্রাণহানিও ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা দীর্ঘদিন মাইগ্রেন ভেবে ব্যথানাশক খেয়ে আসেন, ফলে প্রকৃত রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে।

করণীয় কী?

 

মাথাব্যথা বারবার হলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা অন্যান্য পরীক্ষা করানো জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও, অস্বাভাবিক উপসর্গে দেরি না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।