• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম


শাহজালালের মাজারে দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা, এবার মিলল চার বস্তা টাকা

আপডেট টাইম: July 11, 2026 1:29 pm




ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক:

প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো খুলে গণনা শুরু হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স। নতুন ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত চারটি দানবাক্স থেকে এবার পাওয়া গেছে চার বস্তা টাকা। গণনার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রয়েছে লাল রঙের নোট। শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

মাজার সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়। এরপর ২২ জুন প্রথমবার মাত্র চার দিনের দান গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়। সে সময় ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য ছিল। আর দ্বিতীয় দফায় বাক্স খুলে চার বস্তা টাকা পাওয়া গেলেও গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে দানবাক্সে আনসার সদস্য মোতায়েন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় অর্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। তবে ওই উদ্যোগ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে সরকার বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শতাব্দীপ্রাচীন এই মাজারে দান ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলার ঘটনাটি শুধু অর্থ গণনার বিষয় নয়; বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।