• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম


হবিগঞ্জ-১ আসনে সম্পদ, শিক্ষা ও মামলার হিসাব: হলফনামায় কে কোথায় দাঁড়িয়ে

আপডেট টাইম: January 5, 2026 8:19 pm




ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসন ঘিরে রাজনীতি জমে উঠেছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন একই দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা শেখ সুজাত মিয়া। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও বাসদের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে শিক্ষা, সম্পদ ও মামলার বিচিত্র চিত্র।

বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার সন্তান এবং পেশায় অর্থনীতিবিদ। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এই আসনে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে- অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৭৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি তিন একর ১০ শতক কৃষিজমি ও অকৃষি জমির মালিক তিনি।

সম্পদের হিসাবে রেজা কিবরিয়ার স্ত্রীও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ২৪ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদ এবং ১২৫ ভরি স্বর্ণ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া সম্পদের হিসাবে ড. রেজা কিবরিয়াকে ছাড়িয়ে গেছেন। কৃষি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৯৮ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যদিও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। পাঁচটি মামলার আসামি হলেও চারটিতে অব্যাহতি এবং একটি মামলার নিষ্পত্তির তথ্য দিয়েছেন তিনি।

এই আসনে আরেক আলোচিত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান আলী। পেশায় শিক্ষক এই প্রার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ টাকার কিছু বেশি এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি- ৩৭টি। এর মধ্যে ১৪টি মামলায় খালাস, ১৯টিতে অব্যাহতি এবং একটি মামলা এখনো বিচারাধীন।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পাস। তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা হলেও তাঁর নামে রয়েছে ২৯ লাখ টাকার ঋণ।

বাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ পেশা হিসেবে সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করেছেন। নিজের ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তাঁর নামে ৪২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম- প্রায় দেড় লাখ টাকা।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনে শিক্ষা ও স্বচ্ছতার দিক থেকে ড. রেজা কিবরিয়া এগিয়ে থাকলেও সম্পদের হিসাবে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। অন্যদিকে স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মামলার ভার ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে- সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

#ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪/ফাহাদ