• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ এএম


নবীগঞ্জের মাহিদের গল্প: বাবা নেই, অভাব আছে, তবু ট্যালেন্টপুলে সাফল্য

আপডেট টাইম: July 21, 2026 1:10 pm



মোঃ ফাহাদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:

অভাব তার নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলাতেই হারিয়েছে বাবাকে। সংসারের হাল ধরতে হিমশিম খাওয়া মায়ের পক্ষে একা সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালানো সম্ভব হয়নি। তাই চাচার পরিবারের আশ্রয়েই বেড়ে ওঠা। প্রতিকূলতার এই দীর্ঘ পথ পেরিয়েও দমে যায়নি ছোট্ট শরিফুল ইসলাম মাহিদ। দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে সে।

শরিফুল ইসলাম মাহিদ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পিটুয়া আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত আমির হোসেন এবং মা সাদিয়া আক্তার মান্না। সে পিটুয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি-২০২৬ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। তার রোল নম্বর ৬০২৮০৭১।

মাহিদ জানায়, আমার বাবা নেই। মা অনেক কষ্ট করে আমাকে মানুষ করছেন। চাচার পরিবারও আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেক সহযোগিতা করছে। আমি বড় হয়ে এমন একজন মানুষ হতে চাই, যিনি দেশের সেবা করবেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। দারিদ্র্য আমার স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারবে না- এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমি শুধু সবার দোয়া চাই, যেন পড়াশোনা শেষ করে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।

মাহিদের মা সাদিয়া আক্তার মান্না বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করছে। আল্লাহর রহমতে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আবেদন, সবাই আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে। তবে অভাব-অনটনের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে কি না- এই চিন্তা আমাকে সব সময় কষ্ট দেয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, মাহিদের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। প্রতিকূলতার মধ্যেও সে যে মেধার পরিচয় দিয়েছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে এগিয়ে আসুক। অর্থের অভাবে এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন থেমে না যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান- দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করেও মাহিদের এই অর্জন প্রমাণ করে- সুযোগ পেলে গ্রামবাংলার অসংখ্য মেধাবী শিশুই দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। এখন প্রয়োজন শুধু সমাজের মানবিক মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং শিক্ষানুরাগীদের আন্তরিক সহযোগিতা, যাতে অর্থাভাবে মাহিদের স্বপ্ন মাঝপথে থেমে না যায়।

পিটুয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চৌধুরী বলেন, মাহিদ অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। পারিবারিক প্রতিকূলতা কখনোই তার শিক্ষাজীবনের আগ্রহ কমাতে পারেনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর পঞ্চম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ছিল ১৩ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ জন। যারমধ্যে ৩ জন ছাত্র ও ২ জন ছাত্রী। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তারা হলো শরিফুল ইসলাম মাহিদ ও মাহদীয়া জান্নাত। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমদ রোমান।