• ঢাকা
  •    রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম


রায়হান হত্যা: আকবরের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচ আসামি পলাতক

আপডেট টাইম: October 29, 2026 4:26 pm



ডেস্ক রিপোর্ট:

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতনে হত্যার মামলায় ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ ও পলাতক উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনই পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার দিনেও তাঁদের শাস্তি কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ। সাত বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া অপর তিন আসামি হলেন বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার দিন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। প্রধান আসামিসহ পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সালমা বেগম বলেন, ‘এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।’

রায়হানের মায়ের অভিযোগ, ২০২৫ সালে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর প্রথম তিন আসামি কীভাবে জামিন পেলেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে গেলেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না।’ আসামিদের সাজা কার্যকর না হলে ছয় বছরের অপেক্ষা ও কষ্ট বিফলে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে একমাত্র কারাবন্দী আসামি আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি।

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে আটক করা হয়েছিল। পরে মামলার প্রধান আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তাঁর জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক।

২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলেও পরিবারের কাছে বিচার পাওয়ার পূর্ণতা নির্ভর করছে পলাতকদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকরের ওপর। রায়হানের মায়ের প্রশ্ন ও ক্ষোভ তাই সামনে এনেছে বিচারিক রায়ের পাশাপাশি সাজা কার্যকরের বাস্তবতাকেও।