• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম


শৈলকুপায় স্টিল ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু 

আপডেট টাইম: September 29, 2024 10:27 am



ঝিনাইদহের শৈলকুপার স্ট্রিলের সেতুটি পারাপারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে সরজমনিনে ব্রিজের মেরামতের কাজ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

জানা যায়, ৪ লক্ষ ৯০ হজার টাকা বাজেটে সাখাওয়াত হোসেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঐ ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে ব্রিজে পাটাতন জং ধরে ছিদ্র হয়ে যাওয়াতে ১০ টি পেলেট, ৩ টি চ্যানেল ও ৩৫০ টি নাটের ব্যবহার করে  মেরামতের কাজ চলছে।

গলুক নগর গ্রামের মনজুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে গকুলনগর, কৃষনগর, হারুনদিয়া, দোহখোলা, হররা, দিগনগর, আগুনিয়াপাড়া, তমালতলা, গোপালপুর, বেনিপুর, কচুয়া, কাচেরখোল, মির্জাপুর, সিদ্ধি, হরিদেপপুর গ্রাম সহ খোকসা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঐ সকল মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তিতে পোহাতে হয়।

কৃষ্ণনগর গ্রামের এনারুল জোয়ার্দার বলেন, স্টিলের এই ব্রিজ দিয়ে গাড়াগঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু ব্রিজের অনেক স্থানে জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে। মধ্য থাকে লোহার পাত ভেঙে যাওয়ায় গাড়ী চলাচলে দেবে গেছে। যেকোন সময় ভেঙে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মাঝে মাঝে নামে মাত্র মেরামত করা হয়।হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি নিরসনে জন্য নতুন একটি ব্রিজের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।

ভ্যান চালক জসিম উদ্দিন বলেন,ভারী যানবাহন চলালের অনুপযোগী হওয়ায়র পরেও থামছে না ভারী যানবাহন চলাচল। মাঝে মাঝে ব্রিজের পাটাতন খুলে পড়ায় পড়তে হয় আমাদের ভোগান্তিতে। আমি ভ্যান চালিয়ে আয় করি এভাবে মাঝে মাঝে ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের পড়তে বিপদে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করার জন্য কতৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি।

রুবেল হোসেন  নামের এক গাড়ী চালক বলেন, যখনই ব্রীজের মাঝখানে গাড়ী যাচ্ছে তখন পাত নিচু হয়ে যাচ্ছে। কখন জানি ভেঙে যায় এ ভয়ে সবাই পারাপার হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত ব্রিজটির ভালোভাবে সংস্কার করা বা নতুন করে একটি  ব্রিজ নির্মাণ করে এ সমস্যা সমাধান করা হোক।

বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতিরর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ফারুক বলেন, এই স্টিলের ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন হজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্রতিনিয়ত ব্রিজ ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ায় মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। তিনি বলেন গাড়াগঞ্জ মিয়া জিন্না আলম কলেজের পাশ দিয়ে নতুন একটা ব্রিজ নির্মান করা হলে নদীর ওপারের গ্রামের শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে সুবিধা হতো। সেই সাথে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারতো যাতে করে  অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনার থেকে রক্ষা পওয়া যেত।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, ব্রিজটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। কিন্তু আপাতত নতুন কোন ব্রিজ ওখানে নির্মাণ করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। তবে চলাচলের উপযোগী করার জন্য আমরা মেরামত করছি। আগামীতেও এই মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে গাড়াগঞ্জ-কুমারখালী সড়কের কুমার নদের উপর ১১২ মিটার এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় সড়ক ও জনপথের অধিনে থাকলেও বর্তমানে এটি এলজিইডির আওতাধীন রয়েছে। নদী পারাপারের একমাত্র এই ব্রিজটি গত কয়েকবছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে মেরামত করলেও কিছুদিন পর আবারো ফিরছে একই অবস্থায়। দিনে রাতে জং ধরে ছিদ্র হওয়া গর্তে পড়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে।