• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ এএম


সিলেট রিজিয়নে হাইওয়ে পুলিশের মানবিক জাগরণ: নেতৃত্বে এসপি রেজাউল করিম

আপডেট টাইম: October 26, 2025 11:01 am




হাইওয়ে পুলিশ এখন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই নয়- এটি জনসেবার এক মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। হাইওয়ে পুলিশের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন একজন ভিশনারি (Visionary), কর্মঠ, অদম্য আগ্রহের অধিকারী, দমে না যাওয়ার মানসিকতা ও উন্নত সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা- মোঃ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন।

২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখ হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন, মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট Stakeholder দের দোড়গোড়ায় পৌঁছে তাঁদের প্রকৃত সমস্যা জানা এবং তা নিরসনে প্রানন্তকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি যানযটে নাকাল শায়েস্তাগঞ্জ থানার অলিপুরকে ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা মুক্ত করে পরের দিন অর্থাৎ ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ক্যাম্পের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

মাত্র ৩৯ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ এক আরম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি উক্ত ক্যাম্প দুটির শুভ উদ্বোধন‌ করেন। এই অলিপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের ফলে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কড়া নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে নিয়মিত বিরতিতে ক্যাম্পটি বড় বড় চোরাচালান আটক করতে সক্ষম হচ্ছে।

হাইওয়ে শুধু যানবাহন চলাচলের পথ নয়- এটি আসলে মানুষের কর্মজীবনের ধারাও বটে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেন এবং ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাউয়াবাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প (বক্স) নির্মাণ শুরু করে মাত্র ২০ দিনের মাথায় উক্ত ক্যাম্প উদ্বোধন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

যা এনটিভিসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই ক্যাম্প চালু হওয়ার মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করে। এ ধরনের উদ্যোগই প্রমাণ করে যে এসপি জনাব মোঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন রিয়েকটিভ নয় বরং প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিংয়ে বিশ্বাসী।

রেজাউল করিমের নেতৃত্বের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক উদ্যোগগুলোর একটি হলো- শেরপুর হাইওয়ে থানা জামে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত creativenews24.com এর প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি এ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন মসজিদ ভবন নির্মাণে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও মসজিদ কমিটির সদস্যসহ ব্যক্তিগতভাবে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান, তদারকি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করছেন।

এই উদ্যোগ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়- এটি পুলিশ-জনতার ছিন্নভিন্ন সম্পর্ককে জোড়া লাগানোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একটি থানা প্রাঙ্গণে যখন ইবাদতের ঘর উঠে-তখন সেটি নিরাপত্তা ও নৈতিকতার মিলনস্থল হয়ে ওঠে। এটি যেন জানান দেয়- পুলিশ শুধু প্রহরী নয়, সমাজেরই অংশ, জনগণের বন্ধু, বিশ্বাসের রক্ষক।

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া- শেরপুর হাইওয়ে থানার জামে মসজিদ নির্মাণে পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিমের ভূমিকা শুধু প্রশাসনিক নয় বরং এটি উন্নত নৈতিক নেতৃত্বের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ, তাঁর উদ্যোগেই শেরপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ী, মসজিদ কমিটি, প্রবাসী এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের অর্থ, শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে এই নির্মাণ কাজ চলমান আছে। জনগণের কাছ থেকেও সহযোগিতা আসছে যা পুলিশ বাহিনী ও সমাজের নানান শ্রেণী পেশার মানুষের সম্পর্ককে বেঁধেছে নতুন আস্থায়। এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন- বাংলাদেশের হাইওয়ে এখন উন্নয়ন ও ঝুঁকির সমান্তরালে চলছে। এখানে এমন এক নেতৃত্বের প্রয়োজন, যিনি একদিকে মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন, অন্যদিকে সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসের বন্ধন গড়বেন। পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম সেই নেতৃত্বের এক উজ্জ্বলতম উদাহরণ-যিনি মহাসড়ক, সেবা ও সমাজকে একই সূতোয় যুক্ত করেছেন।

আজ যখন সমাজে পুলিশ-জনতার সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তখন মাত্র ৩ মাসের মধ্যে সম্পূ্র্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অলিপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প, জাউয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প ও শেরপুর হাইওয়ে থানার জামে মসজিদ নির্মাণের মতো উদ্যোগ সচেতন মহলের সবাইকে মনে করিয়ে দেয়-“বিশ্বাস গড়ে ওঠে কর্মে, কথায় নয়”। একজন রেজাউল করিম প্রমাণ করেছেন অফিসার হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্বপালনই করেন না বরং উন্নত সেবা ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া যায়।

এ কারণেই বলা যায়- হাইওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা শুধু মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষাই করছেন না বরং তিনি বিনির্মাণ করেছেন পুলিশ-জনতার সুদৃঢ় বিশ্বাসের এক মজবুত সেতুবন্ধন।

এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বলেন- আমাদের মূল লক্ষ্য মহাসড়কে যানবাহন ও জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা কেবল আইন প্রয়োগই করি না বরং জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস, আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করি। প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং এবং মানবসেবার মাধ্যমে আমরা হাইওয়ে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, পেশাদার ও মানবিক পুলিশে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।