

সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হলো। সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র জাউয়াবাজারে হাইওয়ে পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প (পুলিশ বক্স) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের- ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) মোঃ রেজাউল করিম।
গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, এই মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলিত করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কিছু আইন অমান্যকারী পুনরায় সরকারি জায়গা দখল করে ফেলে। মহাসড়কের দীর্ঘপথে একটিমাত্র থানার পক্ষে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন। তাই জাউয়াবাজারে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা জরুরি ছিল। এটি চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ ভ্রমণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন ভূমিতে আপাতত টিনশেড আকারে ক্যাম্পটি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে সুযোগ হলে স্থায়ী ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাউয়াবাজার দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-সুনামগঞ্জ বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলেও বাজারের আশপাশের সড়ক অবৈধ দখল, যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে জর্জরিত ছিল। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সড়ক দখলমুক্ত করা হলেও আইন অমান্যকারীদের পুনর্দখল ঠেকাতে এই ক্যাম্প স্থাপন নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জাউয়াবাজার পরিচালনা কমিটি, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা হাইওয়ে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই ক্যাম্প চালু হলে সড়কে টহল কার্যক্রম জোরদার হবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এসপি রেজাউল করিম শুধু আইন প্রয়োগে নয়, মানবিক নেতৃত্বের জন্যও পরিচিত। তিনি জানান, এই ক্যাম্পের মাধ্যমে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ সদস্যদের জন্যও ডিউটির ফাঁকে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় সবার মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা হবে।
পুলিশের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দেখছেন প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফেরানোর বড় উদাহরণ হিসেবে। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ যাত্রী, সবার আশা- এই ক্যাম্প হবে মহাসড়ক নিরাপত্তার নতুন মাইলফলক।
