• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম


হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ

আপডেট টাইম: December 6, 2024 4:34 pm




আজ ৬ ডিসেম্বর। হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে হবিগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। পতাকা উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। 

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তেলিয়াপাড়া ডাকবাংলো থেকে সারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর বিভক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের উপ সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব (বীরোত্তম) ও মেজর জেনারেল এজাজ আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে ভারতের খোয়াই বাঘাই ক্যাম্পের ২২ কোম্পানীর ৩৩ মুক্তিফৌজ নিয়ে গঠিত ১ নং প্লাটুন কমান্ডার আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে ৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের বাহুবলে অবস্থান নেয়। এর পর তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হবিগঞ্জের বিভিন্ন পাক ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন পাকসৈন্য প্রাণ হারায়।

একটানা ৩ দিনের অভিযানের পর ৬ ডিসেম্বর ভোরে পাক বাহিনী পালিয়ে যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের বেশে সারা শহর প্রদক্ষিণ করে সদর থানায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ওই দিন একই সাথে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, লাখাই, চুনারুঘাট ও অন্যান্য উপজেলাও মুক্ত হয়। আর এ হবিগঞ্জ মুক্ত করতে গিয়ে বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি, লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর, চুনারুঘাট উপজেলার লাল চান চা বাগান, নালুয়া চা বাগান ও বাহুবল উপজেলার রশিদপুর সহ বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

কিন্তু ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে জেলার ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে আহত হন ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া নিরীহ অসংখ্য মানুষ নর-নারী ও মুক্তিযোদ্ধা হানাদারদের নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকারে শহীদ হন। এসব শহীদদের জন্য তেলিয়াপাড়া, ফয়জাবাদ, কৃষ্ণপুর, নলুয়া চা বাগান, বদলপুর, মাকালকান্দিতে বধ্যভূমি নির্মিত হয়। হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের দাবি অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন, অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসন ও গণহত্যা, বধ্যভূমি ও মুক্তিয্দ্ধুকালীন স্মৃতিস্থানগুলো সংরক্ষণ করা হউক। পাশাপাশি গণহত্যা এলাকাগুলোতে এখনো যারা পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাহতদের পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় দূরাবস্থা ও তাদের পূনর্বসানের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ভূক্তভোগীরা।

, মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান ও মেজর জেনারেল এজাজ আহমেদ এর নির্দেশে ও তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা ফরেষ্টে বড় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে তারা ১১২ জন পাকসেনাকে হত্যা করে। তিনি জানান, ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব (বীরউত্তম) এর গ্রাম খাগাউড়াতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ২২ জন রাজাকারকে আটক করে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়।

৫ ডিসেম্বর রাতেই হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল গ্রামে অবস্হান করে তার দল। পরদিন ৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় পাক বাহিনীকে হঠিয়ে জেলা শহর হানাদার মুক্ত করা হয়। ৬ ডিসেম্বর অভিযান শেষে ৭০ জন রাজাকার- আলবদরকে আটক করে সদর থানায় হস্তান্তর করে মুক্তিসেনারা।