

রাজনগরের মাথিউড়া চা বাগানের বুক ছিঁড়ে বহে চলা লেক সবুজ চত্বরের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। তার সাথে পাতাঝরা বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে আকর্ষণীয় রাবার বাগান সৌন্দর্য্য উপভোগে যে কাউকে ইশারায় ডাকে। রাবার বাগানের দৃষ্টি নন্দন ঝরা পাতার মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় মরু প্রান্তরের আবহ দোলা দেয় মনে। পাহাড়ি ছোঁয়ায় উঁচু-নিচু টিলা পরিবেষ্টিত চা বাগানের শান্ত নিবিড় ডানা মেলা প্রকৃতি পর্যটক মাত্রই আকৃষ্ট করার রসদ রয়েছে।
প্রকৃতি কন্যার এমন অপরূপ লীলা নিকেতনে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সদস্যরা ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেছিলেন। নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকরা মনোহরি ঢংয়ে নেচে-গেয়ে, দেশীয় আদি খেলাধুলা ও ফেলে আসা দিনের গল্প-আড্ডায় সময় পার করেন আনমনে।
শীতের কুয়াশা ভেজা ভোরের সূর্যের ডানা মেলা আলোর সাথে মিতালী পেতে জেলা সদর থেকে রাজনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয় সকাল ৯টায়। বাসের মাঝে চলে সুরে-বেসুরে, তাল-বেতালে গান। কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে ওঠে লটারি বিক্রির মহোৎসবে।
মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের পাশে পাহাড়ি মেটো পথে কিছু সময় যেতেই পিকনিক স্পট মাথিউড়া চা বাগানের বুক ছিঁড়ে বহে চলা লেকের পাড়ে পৌছে গেলাম। সকালের নাস্তাপর্ব শেষে প্রকৃতির সবুজের সাথে মিলিয়ে সাংবাদিক সকলে পরলেন নীল টি-শার্ট। প্রকৃতির সবুজ আর টিশার্টের নীল যেন যোগ পদ সৌহার্দ্যে এদিক-সে দিক ঘুরাঘুরিতে মত্ত হলেন সবে। একই সাথে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চলল ছবি তোলা, কবিতা আবৃতি, যার-তার মতো সংগীত পরিবেশন। এর এক পর্যায়ে ফুটবল, হাড়িভাঙা, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন দেশীয় খেলায় অংশগ্রহণ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। দুপুর গড়িয়ে মধ্যাহ্ন হতেই খাবার গ্রহণ।
এরপর চা বাগানের ফিশারি বাংলোর সামনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চালকের আসনে ছিলেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসল শেফুল, সহসভাপতি মৌসুফ এ চৌধুরী, শ.ই সরকার জবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালেহ এলাহী কুটি, রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল আবুল কালাম বেগ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল। লাকী কুপন ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান সাংবাদিক এম এ সালাম।
প্রবীণ সাংবাদিক মাসুদ আহমেদ, সৈয়দ মহসিন পারভেজ, মামুনুর রশীদ, মুস্তাক চৌধুরী, তারুণ্য উজ্জীবিত সাংবাদিক আব্দুর রব, সালাহ উদ্দিন ইবনে শিহাব, আহমেদ আফরোজ, হোসাইন আহমদ, সৈয়দ বয়তুল আলী, আবুল হায়দার মো. তরিক, পুলক পুরকায়স্থ, ওমর ফারুক নাঈম, আশরাফ আলী, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী সুমন, এম এ কাইয়ুম সুলতান আলী আহমদ মাহিন, রিপন মিয়া, রাজন আহমদ, আজিজুর রহমান রিয়াদসহ অনেকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আনন্দ ভ্রমণকে চমৎকারিতত্ব দান করেছে।
পিকনিক আয়োজনের স্থান নির্ধারণে চা বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে সহযোগিতা করেছেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, ফরহাদ হোসেন। মাথিউড়া চা বাগানের ম্যানেজার ওমর ফারুক আত্মিক পরশে একটি বাংলো ব্যবহারের সুযোগের পাশাপাশি পিকনিকে যাওয়া প্রত্যেক সাংবাদিককে এক প্যাকেট করে চাপাতা উপহার দিয়েছেন।
পশ্চিমাকাশে সূর্য হেলে সন্ধ্যা প্রহর ঘনিয়ে এলে বিদায়ের পালা। আনন্দযজ্ঞ মনের অলিন্দ্যে ভরে ক্লান্ত শরীরে বিষাদ মনে ঘরে ফেরার আয়োজনের মধ্য দিয়ে যবনিকা ঘটে একদিনের উৎসব আমেজের। প্রত্যাশার বাতায়নে ঘোরছে আগামীর আরও বর্ণীল আয়োজন।
