• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম


নবীগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ১৩

আপডেট টাইম: June 29, 2025 9:23 pm



নবীগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে । রবিবার (২৯ জুন) সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ঐ ১৩ জনকে আটক করা হয়।

জানা যায়, গত ২৮ জুন ভোররাতে উপজেলার গজনাইপুর ইউপির দক্ষিণ গজনাইপুর এলাকায় পুলিশের একটি দল নজর উদ্দিন (৪০) এজহারনামীয় এক আসামীকে আটক করতে যায়। তাৎক্ষণিক ঐ এলাকার মসজিদে ডাকাত পড়েছে বলে মাইকে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গুজবে সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে এজহারনামীয় ঐ আসামীকে ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এছাড়াও দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে পুলিশের ১টি ভ্যানগাড়ি ও ২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানার তিন পুলিশ সদস্য— কনস্টেবল শাহ ইমরান (২৭), মোজাম্মেল হক (২৫) ও পল্টন চন্দ্র দাশ (২৫) আহতের ঘটনা ঘটে। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার পশুর হাট সরানোকে কেন্দ্র করে ইউএনও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাধা দেওয়ায় একটি মামলায় ৩৪ জনকে আসামি করা হয়। নজর উদ্দিন সেই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।

ঘটনার সূত্র ধরে রোববার দুপুরে জনতার বাজার এলাকা ও আশপাশে সেনাবাহিনীর বানিয়াচং ক্যাম্প, র‌্যাব ও নবীগঞ্জ থানার পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন হলেন- দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩১), পিরোজপুর গ্রামের নাজির মিয়ার ছেলে রোজেল মিয়া (২৫), দেওপাড়া গ্রামের সালেক মিয়ার ছেলে কাইয়ুম মিয়া (২২), রামলোহ গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে সোহেল আহমেদ (২৩), পানিউমদা গ্রামের মৃত তাজুল মিয়ার ছেলে আল আমিন (৬৬), শতক গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে মো: সাদেক মিয়া (৪২), দেওপাড়া গ্রামের মৃত প্রদীপ দত্তের ছেলে পংকজ দত্ত (৪৩), রামলোহ গ্রামের মোহাম্মদ জুবেদ মিয়ার ছেলে আবির আহমেদ জয় (১৯)।

বানিয়াচং সেনা ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হারুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন- অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল র‌্যাব ও পুলিশকে সহায়তা করেছে। আটককৃতদের নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন- আটকদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন- এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়াও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।