

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আউশকান্দি ইউনিয়নের হাছানখালী খালের কালভার্টের নিচে লাশ ভেসে ওঠার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যার মূলহোতাকে। ৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারকৃত মো. আব্দুল আউয়াল (২৫), পিতা লেচু মিয়া, গ্রাম বনগাঁও, নবীগঞ্জ।
গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় ভিকটিম নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের আতিক মিয়ার ছেলে জাবেদ মিয়া (২৮) নিখোঁজ হন। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর, ২২ আগস্ট দুপুরে খালের পানিতে ভেসে ওঠে তার মরদেহ। স্থানীয়রা দৃশ্যটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রাথমিক ধারণা, ভিকটিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় প্যান্টের কোমরের কালো বেল্ট দিয়ে। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে রাখা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ (সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প) ও র্যাব-১১ (সিপিসি-১)-এর যৌথ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় আউয়ালকে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান আরও জোরদার থাকবে।
তবে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। এত দ্রুত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কি সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরকে তুলে ধরছে না? হত্যার ১৫ দিন পর গ্রেফতার হওয়া মূলহোতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার পাশাপাশি তাদের গতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
একটি হত্যাকাণ্ডের পর কেবল অপরাধী ধরা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
