• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম


নবীগঞ্জে কুশিয়ারার বুকে রহস্যের গভীরতা! নিখোঁজ শ্রমিক রাব্বী- ডুবে গেলেন, নাকি ডুবিয়ে দেওয়া হলো?

আপডেট টাইম: October 12, 2025 11:07 pm




কুশিয়ারা নদীর বুকজুড়ে যেন ছড়িয়ে পড়েছে এক অজানা অন্ধকার রহস্য। দীঘলবাক ইউনিয়নের কুমারকাদা এলাকায় বালু পরিবহনের কাজে নামা তিনজন শ্রমিকের মধ্যে হঠাৎ এক জন নিখোঁজ! নদীর গভীরে ডুবে গেছেন- এটাই আপাত সত্য। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, এই নিখোঁজের পেছনে হয়তো আরও গভীর কোনো গোপন সূত্র লুকিয়ে আছে।

রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বালু পরিবহনকারী শিপিং এম.বি নীলামনি-এর নিচে ফাটল ধরা অংশ মেরামতের কাজ চলছিল। তিন শ্রমিক- বরিশালের বরগুনা জেলার গোলাম রাব্বী (২৫), নাজমুল হোসাইন (২৫) ও শহিদুল ইসলাম- একসঙ্গে পানিতে নামেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাব্বী ডুব দেন ফুটো বন্ধ করতে, কিন্তু আর উপরে ওঠেননি।

নাজমুল হোসাইন জানান, আমরা একসঙ্গে নামি। কিছু সময় পর দেখি রাব্বী নিচে গেছে, কিন্তু আর উঠে আসছে না। অনেক খুঁজেও তাকে পাইনি।

এরপর নদীর পাড়ে ছুটে আসে স্থানীয়রা, চারদিক থেকে ভেসে ওঠে আতঙ্কের আওয়াজ। নদীর স্রোত ছিল স্বাভাবিক, গভীরতাও পরিচিত। তাহলে এমন কী ঘটল যে এক মুহূর্তেই গিলে ফেলল নদী এক তরুণ প্রাণকে?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর এই অংশে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে ওয়াহেদ এন্টারপ্রাইজ ও তালুকদার এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র তাদের পক্ষে পরিবহন কাজ করে মেসার্স ভঁইয়া এন্ড সন্স শিপিং লাইন্স (এম.বি নীলামনি), যার মালিক স্থানীয় মোঃ সোহাগ মিয়া।

প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অভিযোগ- বালু উত্তোলন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নানাবিধ প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি একাধিক শ্রমিক বকেয়া মজুরি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাব্বীর নিখোঁজ হওয়ায় নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে- এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা?

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোঃ ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান- আমরা ডুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার অভিযাননে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। কিন্তু অন্ধকার নেমে আসায় কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে। আগামীকাল ভোরে অভিযান চালানো হবে।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান তারা গিয়েছে। আপাতত এটি নিখোঁজের ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এখানে এমনভাবে মানুষ হারায়নি আগে। নদীটা যেন কিছু একটা গোপন করে রেখেছে। হয়তো শিপিংয়ের নিচে শুধু ফুটো নয়- আরও কিছু আছে!

স্থানীয়রা দাবি করছেন, ঘটনাটি এক ‘অন্তরালের গল্প’- যেখানে নদীর জল ঢেকে রেখেছে আসল সত্য। নিখোঁজ রাব্বীর সহকর্মীরা শোকাহত, পরিবার উৎকণ্ঠিত, আর কুশিয়ারার বুকজুড়ে ভাসছে প্রশ্নের ঢেউ। রাব্বী কি সত্যিই নদীর তলায় হারিয়ে গেলেন, নাকি কাউকে হারিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল আগেই?

অভিযান চলছে, তদন্তও শুরু হয়েছে- কিন্তু উত্তর এখনো মিলেনি। কুশিয়ারা এখন নিঃশব্দ, তবে তার গভীরতায় যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এক অদেখা সত্যের আভাস- “ডুবে গেল, নাকি ডুবিয়ে দেওয়া হলো?”