• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দায়িত্ব বাড়লো হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের

আপডেট টাইম: December 31, 2025 11:17 am




মোঃ ফাহাদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ঢাকা-সিলেট-তামাবিল জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ যানজটে নাকাল থাকা সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ফিরছে স্বস্তির আশা।

মাত্র কিছুদিন আগেও কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও বিশ্ব রোড এলাকায় নিয়মিত ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও জাফলংগামী যাত্রীবাহী যানবাহন কখন গন্তব্যে পৌঁছবে- তা ছিল অনিশ্চিত। যাত্রীদের ভোগান্তি, পর্যটন খাতের ক্ষতি এবং পরিবহন ব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিন ধরে।

এই পরিস্থিতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা এবং গাজীপুর রিজিয়নের অধীন ভৈরব হাইওয়ে থানাকে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর ফলে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মরজাল বাজার থেকে শুরু করে সিলেট হয়ে জাফলং পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক-২ এর বিস্তীর্ণ অংশে যানবাহন চলাচল, যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান ও ডাকাতি প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মহাসড়কে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ সাল থেকে বর্ধিত এই অংশে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন,
“ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নতুনভাবে দায়িত্ব সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।”

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে- এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।