• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম


জনতার হাতে চারজন আটক, উদ্ধার গাঁজা-ইয়াবা: সরকার বাজারের মাদকচক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

আপডেট টাইম: August 1, 2026 12:02 am




মোঃ ফাহাদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ ছিল, এলাকায় প্রকাশ্যেই চলত মাদক কেনাবেচা। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ গেলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে সেই ক্ষোভই রূপ নেয় গণআটকে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজার ও বাদেফতেপুর এলাকায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন ‘ইয়াবা মজনু’ নামে পরিচিত মজনু মিয়া (৪০)। পরে পুলিশ এসে তাঁকে আরও তিনজনসহ নিজেদের হেফাজতে নেয়। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শুধু চারজনের আটকই নয়, নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগে আলোচিত একজন ব্যক্তি কীভাবে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন? অভিযোগের পরও কেন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি? স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবারের ঘটনা ছিল জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে প্রথমে কয়েকজন কথিত মাদকসেবীকে আটক করেন এলাকাবাসী। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শত শত মানুষ বাদেফতেপুর এলাকায় মজনু মিয়ার বাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরে তাঁকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোজাফফরাবাদ গ্রামের জুনাই মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৫), বাদেফতেপুর গ্রামের আমির মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩০), একই গ্রামের মৃত কুসাই মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪০) এবং হবিগঞ্জ জেলার আজমীরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে জুবায়ের হোসেন (৩০)।

পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও পাঁচটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার বাজারসহ আশপাশের এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগে পরিচিত ছিলেন মজনু মিয়া। এ কারণেই এলাকায় তিনি ‘ইয়াবা মজনু’ নামে পরিচিতি পান।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কিছু সদস্যের যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন জোরালো হয়েছে- মাদক নিয়ে এত অভিযোগ থাকার পরও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল? তাঁদের মতে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযান জোরদার হলে জনতার হাতে কাউকে আটক করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ কে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। তাদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও পাঁচটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারেই দায়িত্ব শেষ নয়। অভিযোগের উৎস, মাদকের সরবরাহ চক্র, সম্ভাব্য সহযোগী এবং পৃষ্ঠপোষকদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের মতে, প্রকৃত অনুসন্ধান হলে কেবল চারজন নয়, পুরো নেটওয়ার্কই উন্মোচিত হতে পারে।