• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম


নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে মিললো নিখোঁজ শ্রমিকের নিথর দেহ

আপডেট টাইম: October 14, 2025 1:02 am




নবীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর বুকজুড়ে ভাসছে এক অজানা রহস্যের ছায়া। দীঘলবাক ইউনিয়নের কুমারকাদা এলাকায় বালু পরিবহনের কাজে নদীতে নামা তিন শ্রমিকের একজন নিখোঁজের একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে শিপিং পরিচালনা ও বালু সিন্ডিকেট নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে নতুন ধোঁয়াশা।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫০ ফুট দূরত্বে নদীর তলদেশে মাটিতে আটকে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ শ্রমিক গোলাম রাব্বী (২৫) এর লাশ উদ্ধার করে।

ডুবুরি দলের সদস্য কাওছার মিয়া বলেন, নবীগঞ্জে ডুবুরি দল না থাকায় আমরা হবিগঞ্জ থেকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। কিন্তু অন্ধকার নেমে যাওয়ায় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে অভিযান চালাই, প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় শিপিং থেকে দেড়শো ফুট দূরে রাব্বীর লাশ উদ্ধার করি।

তিনি আরও জানান, লাশটি পানির নিচে মাটির মধ্যে আটকা ছিল। ধারণা করছি, পানিতে তলিয়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশের দৃশ্যমান কোনো ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শিপিংয়ের নিচে ফাটল ধরা একটি ফুটো বন্ধ করার কাজে নদীতে নামেন তিন শ্রমিক – বরগুনার নলিশাজিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দার মৃত আব্দুল হকের ছেলে গোলাম রাব্বী (২৫), তার সহকর্মী নাজমুল হোসাইন (২৪) ও শহিদুল ইসলাম (২৫)। সহকর্মী নাজমুল হোসাইন জানান, আমরা তিনজন একসঙ্গে নদীতে নামি। রাব্বী নিচে ডুব দেয় শিপিংয়ের ফুটো আটকাতে, কিন্তু আর ওপরে ওঠে না। তারপর নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাজুড়ে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে ওয়াহেদ এন্টারপ্রাইজ ও তালুকদার এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও নামসর্বস্ব আরও কয়েকটি ‘সিন্ডিকেট চক্র’ এ অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রতিষ্ঠানগুলোর বালু পরিবহনের দায়িত্বে ছিল মেসার্স ভঁইয়া এন্ড সন্স শিপিং লাইনস (এম.বি. নীলামনি)। তবে শিপিংটি কারা ভাড়ায় পরিচালনা করছে এবং কোন সিন্ডিকেট এর পেছনে রয়েছে- তা নিয়েই এখন সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন রহস্য।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান বলেন, নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত রাব্বীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড়ভাই একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। সুরতহাল শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। কেউ বলছেন দুর্ঘটনা, কেউ বলছেন গোপন কোনো ত্রুটি বা অবহেলা হয়তো চাপা দেওয়া হয়েছে। কুশিয়ারার স্রোত এখনো বয়ে চলছে নিরবধি, কিন্তু তার বুকের নিচে চিরতরে থেমে গেছে এক তরুণ শ্রমিকের স্বপ্ন, আর ভেসে উঠেছে এক গভীর অন্ধকার রহস্য- যার উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে নদীর তলদেশেই।