

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নবীগঞ্জ পৌরসভার রাজাবাদ এলাকায় এক সংবাদকর্মীর স্মার্টফোন, টাকা ও আরও কয়েকটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। পরে চুরি হওয়া স্মার্টফোনটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা এলাকার একটি টেলিকমের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. জাফর ইকবাল। তাঁর দাবি, ফোনটি তাঁর কাছ থেকে চুরি হওয়ার পর হাতবদল হয়ে ওই দোকানে পৌঁছায়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে জাফর ইকবাল উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ভোরে তাঁর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও মানিব্যাগ চুরি হয়। ফোনটির বাজারমূল্য ২২ হাজার ৫০০ টাকা এবং মানিব্যাগে ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর চলতি বছরের ২ আগস্ট রাতে বোনের বাড়ি থেকে ধার করে আনা ৫০ হাজার টাকা দোকানের জামানতের জন্য রাখেন বলে অভিযোগে জানান তিনি। পরদিন ৩ আগস্ট ভোরে ওই টাকা, একটি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ফোনের চার্জার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায়ও তিনি নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। ২৭ আগস্ট ফোনের জিডির কপি ও আইএমইআই নম্বর পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। ওই দিন বিকেলে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা এলাকায় ‘সায়েম টেলিকম’ নামের একটি দোকান থেকে ফোনটি উদ্ধার করে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করে সেটি চুরি যাওয়া ফোন বলে শনাক্ত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জাফর ইকবালের অভিযোগ, দোকানের মালিক সুহিন আহমদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ফোনটি রাহিন মিয়ার কাছ থেকে কিনেছিলেন। এরপর ফোনটি কীভাবে সেখানে গেল, তা নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে বিস্তারিত তদন্তের আবেদন করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ফোন উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁর সঙ্গে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের ক্ষতির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী সাংবাদিক আরও দাবি করেন, চুরির ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশককে ফোন করে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবাদলিপির কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে জাফর ইকবাল নবীগঞ্জ থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে দুটি জিডির কপি, বিভিন্ন প্রতিবাদের স্ক্রিনশট, প্রকাশিত সংবাদের কপি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক সম্পৃক্ততা, হুমকি বা অন্য কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন- বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
