• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম


বসিরহাটের সাংসদ ও তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক

আপডেট টাইম: September 26, 2024 3:17 pm




বসিরহাটের সাংসদ ও তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক মহলে। বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন শারীরিক অসুস্থতায়। বুধবার দুপুরে বারাসত ১ ব্লকের বহেড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাজী শেখ নুরুল ইসলাম। বয়স হয়েছিল ৬৮ ১৯৬৪ সালে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের অন্তর্গত ছোট জাগুলিয়ার বহেড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি । পিতা শেখ তফসের আলী ও মা নুরজাহান বিবি৷ রেখে গেছেন স্ত্রী রাসিদা বেগম ও ৪ পুত্র সন্তানকে। সম্প্রতি ঘাড়ের একটি অপারেশন হয় হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে। লিভার ক্যানসারেও আক্রান্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছিল। বুধবার দুপুর একটা পাঁচ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। জানান

প্রয়াত হাজী নুরুল ইসলামের ভাই শেখ সাইফুদ্দিন৷ জানাযা হবে বৃহস্পতিবার বেলা ১:৩০ মিনিটে, বহেড়া ঈদগাহ ময়দানে ৷ হাজী নুরুলের মৃৃত্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, আমার একজন শ্রেষ্ঠ সহকর্মী চলে গেলেন। বসিরহাটের সাংসদ হাজী শেখ নুরুল ইসলামের ইন্তেকালের খবর শুনে আমি মর্মাহত। তিনি প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় একজন নিবেদিত সমাজসেবক হিসেবে কাজ করেছেন। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বসিরহাটের মানুষ তাঁর নেতৃত্ব মিস করবেন। আমি তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আমাদের বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হাজী শেখ নুরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর শুনে আমি গভীরভাবে দুঃখিত।‌ তিনি মা, মাটি, মানুষ দর্শনের সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। এমনকি তাঁর শেষ দিনগুলিতেও মানুষের সেবা এবং তাদের কল্যাণ রক্ষায় তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল এবং আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

হাজী নুরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৮ সালে জাতীয় কংগ্রেস দলে ছাত্ররাজনীতির হাত ধরে। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন লড়াই আন্দোলনে সাক্ষী হাজী নুরুল ৷ ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০০৩ সালের নির্বাচনে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৷ ২০০৮ সালের জেলা পরিষদের আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ও বাম পরিচালিত জেলা পরিষদের বিরোধী নেতা হন। ৷ ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করেন৷ এরপর ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল জঙ্গিপুরের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন হাজী নুরুলকে। সে বার তিনি পরাজয় বরণ করেন ৷ তারপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে পুনরায় জয়লাভ করেন ৷ ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে ফের তাকে মনোনীত করেছেন ৷ এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দু’বার রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান, তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন ৷ তিনি তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য চেয়ারম্যান এবং বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে বহাল ছিলেন ৷ সম্প্রতি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ নির্বাচিত হন প্রায় তিন লক্ষ ভোটে জয়লাভ করে।