• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম


বাঁওড় ইজারা বাতিলের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট টাইম: January 19, 2025 7:28 pm




 ডেস্ক রিপোর্ট :

ইজারা বাতিল করে বাঁওড় জেলেদের প্রথাগত মালিকানার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মাছ ধরার অধিকারসহ প্রকৃত মৎস্যজীবীদের স্বার্থে জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নে ৪ দফা দাবিতে সারাদেশের বাঁওড় অঞ্চলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও বিক্ষোভ সমাবেশ একযোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি সংগঠিত হয়েছে।

১৯শে জানুয়ারী রবিবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বাঁওড় জেলেদের বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে সংগঠনের জেলা নেতা বাসুদেব বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নির্মল হালদার, সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব, ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সদস্য সচিব নিত্য হালদার প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে সারাদেশের বাঁওড় অঞ্চলের জেলায়-জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অংশ হিসাবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। কর্মসূচিতে সংহতি জানান যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সভাপতি আবু তোয়াব অপু, উদীচী সাবেক সভাপতি তোফাজ্জেল লস্কর, কৃষক সমিতির জেলা আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, উদীচী সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মিটুল, বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা নেতা শীতল হালদার। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(ভূমি) গোকুল চন্দ্র কবিরাজ গ্রহণ করে স্মারক লিপি।

ভূমিসন্তান বাঁওড় জেলেদের জীবন বাঁচাতে ৪ দফা দাবির কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ : ১. বাঁওড়সমূহে ইজারা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করে বাঁওড়ে জেলেদের ন্যায়সঙ্গত মালিকানার স্বীকৃতি দিতে হবে।
২. বাঁওড়ে মাছ চাষে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রের অর্থায়নে ও জেলেদের সাথে নায্য উৎপাদনের অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে করতে হবে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় প্রকৃত বাঁওড় মৎস্যজীবীদের জন্য রেশনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি না করে বাঁওড়ে মাছের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আন্দোলন সংগঠক ও গবেষক সুজন বিপ্লব বলেন, সরকারের বিভিন্ন খাতের ভর্তুকির চেয়েও একবারে তলানী পরিমাণ টাকার অংকে ইজারা থেকে রাজস্ব আদায়ের সাথে ১ কোটি জেলে জনগোষ্ঠী কর্মসংস্থান হারিয়ে না খেয়ে মরছে। জলমহাল থেকে উচ্ছেদের শিকার ভূমিপুত্র বাঁওড় মৎস্যজীবীরাও সারাদেশে লক্ষ লক্ষ পরিবার-পরিজন পথে বসেছে। ঝিনাইদহ-যশোরের বৃহত্তম বলুহর, জয়দিয়া, কাঠগড়া, মর্জাত, ফতেপুর, বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে ইজারাপ্রথার কুফলে ভূমিহীন, গরিব ও বেকার ৩০ হাজার জেলে জনজীবনের বাঁচার আকুতি রাষ্ট্রকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। বংশপরম্পরায় বাঁওড়ের মালিকানা জেলেদের দাবি করে বলুহর বাঁওড় জেলে নির্মল হালদার বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে আমাদের সমস্যার সমাধান করা না হলে দেশের সব বাঁওড় পাড়ের জেলে নারীপুরুষ, শিশু ও প্রবীণেরা দলবেঁধে আগামীতে রাজধানী ঢাকায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা বরাবর ধর্না দিতে বাধ্য হবো। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলে বাঁওড় ইজারা বাতিল ও জেলেদের মালিকানার দবিতে নানা স্লোগান দেন বিভিন্ন বাঁওড় থেকে জড়ো হওয়া গরিব, ভূমিহীন ও বেকার জেলেরা।

বাঁওড় অঞ্চলের জেলাভুক্ত যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ নানা বাঁওড় জনপদে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।