• ঢাকা
  •    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম


মৌলভীবাজারে ভাইকে অপহরণ করে হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেট টাইম: July 1, 2026 3:18 pm




মোঃ ফাহাদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:

মৌলভীবাজারে আলোচিত এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির আপন ভাইকে মূল পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুল মতিন (৫৮) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবালা ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ২৮ জুন সকালে একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে তিনি বাড়ি থেকে আদালতের উদ্দেশে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা স্বামীর খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে খবর পান, বাড়ির পূর্ব পাশে একটি রাস্তার ঢালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের সঙ্গে তাঁর ভাই-বোনদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন আব্দুল মজিদ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী লোকজন নিয়ে মতিনকে অনুসরণ করা হয়। পরে নির্জন স্থানে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। হাত-পা বেঁধে হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যান অভিযুক্তরা।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিপু কুমার দাস বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা- সংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”