

নিজস্ব প্রতিনিধি:
শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারের ফ্যামিলি বাজার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মিডিয়াকর্মী পরিচয়ে স্বল্পমূল্যে মুরগী নিতে ব্যর্থ। এরপর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে মরা মুরগী বিক্রির অভিযোগ দায়ের। ভোক্তা অধিকার শুনানী শেষে ওই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায়ে অসন্তুষ্ট ব্যবসায়ী। এর প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে ১৫ আগস্ট রাত ৯টায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাংবাদিক সম্মেলনে এই সব অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সূত্রে যায়, শ্রীমঙ্গলের শহরের ফ্যামিলি বাজার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাসুমুর রশিদ (মাসুম) সুনামের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম করে আসছেন। ওই প্রতিষ্ঠানে ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়।
গত ১৩ আগস্ট বিকেলে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মৃত মুরগি বিক্রয় করার দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু কথিত অভিযোগকারী সাংবাদিক পরিচয়ে বাজারমূল্য থেকে কম দামে সম্প্রতি মোরগ নিতে নানা কৌশল করেন। এরপর আরেক দিন এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তিনি ১২০ টাকায় তিনটা মরা মোরগ ক্রয়ের প্রস্তাব দেন কর্মচারীদের। এর জবাবে কর্মচারীরা জানায় এখানে মরা মুরগী বিক্রি হয় না। মূলত প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিন ১-২টা মোরগ মারা যায়। এই মৃত মোরগ বর্জ্ব্য রাখার স্থলে রাখা হয়। বাসা-বাড়িতে কুকুর লালনকারী বা বেসরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানার পশুর খাবারের জন্য অনেকে বর্জ্ব্যস্থল থেকে নিয়ে যায়। নতুবা ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়।
এ দিকে গত ২১ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে কোন বিষয়ের উল্লেখ না করে একটি নোটিশ দিয়ে ওই কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্ধারিত তারিখে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়। ওই দিন ভিডিও ক্লিপ্ট প্রদর্শন করা হয়। এতে প্রকাশ্যে দিনের বেলা প্রতিষ্ঠানে এসে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি স্টাফদের কাছে মরা মুরগী আছে কি-না জানতে চায়, এবং ১২০ টাকায় ৩টা মরা মুরগী ক্রয় করার প্রস্তাব দেন।
এসময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তাকে জানান অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ায় ২-১টা মুরগী মারা যায়। স্টাফরা সে মৃত মুরগী আলাদা স্থানে রেখে দেয়। এ গুলো গৃহপালিত কুকুরের খাবারের জন্য ও চিড়িয়াখানার পশুদের খাবার হিসেবে মৃত মুরগী নিয়ে যায়। এর সাথে মালিক পক্ষের কোন সম্পর্ক নেই।
এই ব্যাখ্যায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এর কর্মকর্তা সন্তুষ্ট না হয়ে ফ্যামেলি বাজার মালিককে গত ১৩ আগস্ট ফের হাজির হতে নির্দেশ দেন। অতঃপর ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে হাজির হলে ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ফ্যামেলি বাজার নামক প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগী বিক্রি হয়। ২৫ বছর ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অন্য দিকে গত মাস ছয়েক মাস আগে এক সন্ধ্যায় বস্তা ভর্তি মাংস নিয়ে এসে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। বিক্রেতাকে জানানো হয় এখানে বস্তাবন্ধি মাংস কেনা-বেচা হয় না। গরু ক্রয় করে হালাল উপায়ে জবাই করে প্যাকেটজাত মাংস বিক্রি করা হয়।
এই আলোচনার মধ্যে শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোকানে হাজির হোন। তিনি ওই মাংসের বস্তা খুলে দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবার অনুপযোগী মাংস হিসেবে শনাক্ত করেন। এ অবস্থায় মাংস নিয়ে আসা ব্যক্তি কৌশলে কেটে পড়ে। তখন মাংস পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান পরিচালনা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও মাংস জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে সিসি ফুটেজ দেখে পুলিশ মাংস নিয়ে আসা ওই ব্যক্তিকে খোঁজাখুঁজি করে পায়নি। তিনি জানান ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রতিযোগিতায় ঠিকতে না পেরে এমন পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছে। ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাসুমুর রশীদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবী জানান।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল আমিন জানান ফ্যামিলি বাজার থেকে মরা মোরগ বিক্রির তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন কেউ যদি কুকুর কিংবা চিড়িয়াখানার পশু খাদ্যের জন্য মরা মোরগ কিনে নেয় তাহলে তারিখ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার্ট খাতায় মেনটেন করা প্রয়োজন।
