• ঢাকা
  •    রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ এএম


লাখো মানুষের ঢলে শেষ বিদায়: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সম্পন্ন খালেদা জিয়ার জানাজা

আপডেট টাইম: December 31, 2025 5:10 pm




ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক: দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের অকল্পনীয় অংশগ্রহণে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় শোক ও আবেগে ভাসতে থাকা এই জানাজা পরিণত হয় ইতিহাসের এক বিরল গণসমাবেশে।

বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক। জানাজার সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, দেশি-বিদেশি রাজনীতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে শুরু করে বিজয় সরণি, আগারগাঁও, পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ, আসাদগেট, আড়ং মোড়, মিরপুর রোড, সোবহানবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও জাহাঙ্গীরগেট পর্যন্ত মানুষের জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আশপাশের ভবনের ছাদেও জানাজার নামাজ আদায় করতে দেখা যায় মুসল্লিদের।

সকাল থেকেই লাখো মানুষের ঢল নামে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। জনস্রোতের চাপে সাময়িকভাবে উড়ালসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

জানাজার শুরুতে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন,
“খালেদা জিয়া বলতেন- বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই।” তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন, যার ফলে দেশ বিশ্বে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

সংক্ষিপ্ত ও আবেগঘন বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,
“আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন- আমি তা পরিশোধ করবো, ইনশাআল্লাহ। একই সঙ্গে ওনার কোনো কথা বা ব্যবহারে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, মরহুমার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।”

লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত দোয়ায় শেষ হয় এই জানাজা। বিদায়ের এই দৃশ্য শুধু একটি রাজনৈতিক নেত্রীর নয়- এ যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, যা চিরদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।