• ঢাকা
  •    রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ এএম


শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতা মাহদী হাসান আটক

আপডেট টাইম: January 3, 2026 8:47 pm




ক্রিয়েটিভ নিউজ২৪ ডেস্ক: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। বিষয়টি জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করলেও এ ঘটনায় পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আটকের পর মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জ সদর থানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে পুলিশ আটক করে। নয়ন নিজেকে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী দাবি করে শুক্রবার তাকে ছাড়াতে থানায় যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদী হাসানসহ কয়েকজন নেতা।

এ সময় থানার ভেতরে পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসিসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সামনে বসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে কথা বলছেন।

ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, “এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল, এই গভমেন্ট আমরা গঠন করেছি। অথচ আপনারা আমাদের ছেলেদের ধরে আনছেন।” এক পর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়াই দিছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিছিলাম। এখন কোন সাহসে তাদের ধরে নিয়ে আসা হলো?” এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগ করার কারণে কাউকে অপরাধী বলা হলে আন্দোলনের অনেক সমন্বয়কারীর অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তিনি দাবি করেন, এনামুল হাসান নয়ন আগে ছাত্রলীগ করলেও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির কর্মী ছিলেন এবং সে সংক্রান্ত প্রমাণ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তবে ওসি তা আমলে না নিয়ে বলেন, “আন্দোলন করলেই কেউ নির্দোষ হয়ে যায় না।” ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের বিষয়ে মাহদী বলেন, প্রথমে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দেওয়া মাহদী হাসানের কিছু বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসানকে সংগঠনের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় পুলিশের এসআই সন্তোষ পিটিয়ে নিহত হন। ঘটনার পর তার মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর আগে পুলিশের গুলিতে ওই এলাকায় অন্তত ৯ জন নিহত হন। ঘটনাটি নিয়ে গত ২৫ জুলাই বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, থানার ভেতর বাছাই করে এসআই সন্তোষকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমান ঘটনায় সেই অতীত প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।