

“আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন” – গ্রামবাসীর দাবি; দোষীদের শাস্তি না হলে মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি
নবীগঞ্জে গৃহবধূ সালমার মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে চারটি গ্রাম। শ্বশুরবাড়ির ঘর থেকে সালমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ। স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নবীগঞ্জ-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কুর্শি পয়েন্টে কয়েকশ নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দ্রুত বিচার না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
১৮ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় নবীগঞ্জ উপজেলার জালালসাপ গ্রামে সালমার শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সালমা হোসেন মিয়ার স্ত্রী। তবে সালমার বাবার বাড়ির লোকজন দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছে।
লাশ গোসল করানোর সময় শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নারীরা। পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় সালমার স্বামীসহ ১১ জনকে আসামি করে হবিগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরওয়ার শিকদার, শ্রমিক নেতা জামাল আহমদ, কুর্শির প্রবীণ মুরব্বি গুলেমান খান, কাহার চৌধুরী, হারুন চৌধুরী, রব্বুল মিয়া, ছনর মিয়া, কবির মিয়া, অভিনাশ সূত্রধরসহ আরও অনেকে।
গ্রামবাসী বলেন, “একজন নারীকে পিটিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
কুর্শি, ষাটকাহন, নোয়াগাঁও, ফুটারমাটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর আল্টিমেটাম অনুযায়ী দ্রুত বিচার না হলে যে কোনো সময় বড় আন্দোলনে যেতে পারে তারা।
