• ঢাকা
  •    রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ এএম


১৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য শেরপুরে, প্রশ্ন উঠছে চোরাচালানের রুট নিয়ে

আপডেট টাইম: September 13, 2026 9:27 pm




মোঃ ফাহাদ আহমদ:

সীমান্তবর্তী এলাকা পেরিয়ে একটি ট্রাক পৌঁছে গিয়েছিল মৌলভীবাজারের শেরপুর চত্বরে। ট্রাকটিতে ছিল ভারতীয় তৈরি ফুসকাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালানোর পর বেরিয়ে আসে চোরাচালানের এই চালান। পুলিশের হিসাবে জব্দ করা পণ্যের মূল্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা।

রোববার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে শেরপুর চত্বরে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্যসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের কোতোয়ালি থানার বসুন্দিয়া এলাকার আমিনুর রহমান (৪০) ও সাগর হোসেন (২৪) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি এলাকার রুবেল মিয়া (২৮)।

পুলিশের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালালে ভারতীয় তৈরি ফুসকাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য পাওয়া যায়। পরে পণ্য ও ট্রাকটি জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে পুলিশের অভিযানে চালানটি ধরা পড়লেও এর উৎস ও গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সীমান্ত থেকে এসব পণ্য কোন পথে মৌলভীবাজারের শেরপুরে এল, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল- এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আরও একটি প্রশ্ন হলো, ১৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য বহনকারী একটি ট্রাক কীভাবে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে শেরপুর পর্যন্ত এল। চোরাচালানের ক্ষেত্রে শুধু বাহক বা পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই পুরো চক্রের সন্ধান মিলবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়। চালানটির সঙ্গে সরবরাহকারী, ক্রেতা কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তদন্তে তা বেরিয়ে আসতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর থানায় ১৩ সেপ্টেম্বর মামলা হয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫ডি/২৫বি(বি) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ বলছে, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন- শেরপুরে ধরা পড়া এই ১৬ লাখ টাকার চালান কি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে আরও বড় কোনো চোরাচালান নেটওয়ার্ক? তদন্তে এর উত্তর মিলবে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।